কিচেন টিপস

রান্নাঘরের টুকিটাকি

  • পেঁয়াজ কুটলে কটু গন্ধ হলেঃ গন্ধ হওয়াটাই খুব স্বাভাবিক। মনে হয় সারা দেহেই বুঝি গন্ধটা লেগে রয়েছে। গন্ধ কাটাবার জন্য তখন একটু সরষে তেল হাতে ঢেলে ডলে নেবেন। দেখবেন গন্ধ দূর হয়ে যাবে।
  • তরকারিতে হলুদ বেশি হলেঃ তরকারিতে হলুদ বেশি হলে সত্যিই খেতে খুব খারাপ লাগে। গন্ধ লাগে শুধু ওই গন্ধটার জন্যই। এইরকম অবস্থায় একটি খুন্তি চুলায় পুড়িয়ে লাল করে ওই তরকারিতে ডুবিয়ে দেবেন। দেখবেন গন্ধ কেটে গেছে।
  • চুলায় আঁচ না উঠলেঃ কয়লার চুলায় অনেক সময় আঁচ উঠতে দেরি হয়। বা একেবারে তলায় থাকে। ওপরে উঠতে চায় না। একটু লবণ ছড়িয়ে দিয়ে দেখবেন, আশ্চর্য ফল পেয়ে গেছেন।
  • লবণ গলে গেলেঃ পাত্রে রাখা লবণ অনেক সময় গলে যায়, যার ফলে রান্নার লবণের পরিমাণ প্রায় সময়ই হেরফের হয়ে যায়। এ অসুবিধা দূর করতে এক টুকরো ব্লটিং পেপার কেটে পাত্রের তলায় রেখে তার ওপরে লবণ রেখে দেখুন। সমস্যা দূর হয়ে গেছে।
  • লেবু টাটকা রাখতে হলেঃ অনেক সংসারেই লেবু লাগে। একসাথে বেশ কয়েকটা কিনলে দাম একটু সস্তা হয় কিন্তু বাড়িতে এনে সবগুলো ব্যবহার করা যায় না। তার আগেই দু’একটা শুকিয়ে যায়। এই সমস্যা দূর করতে গেলে লেবু পানিতে রাখুন এবং রোজই সেই পানি পাল্টে দিন। এইভাবে লেবু অনেকদিন টাটকা রাখতে পারবেন।
  • ডিম টাটকা রাখার উপায়ঃ ডিমকে টাটকা রাখতে হলে চুনের পানিতে অথবা লবণের পানিতে ডুবিয়ে নিন। দেখবেন অনেকদিন অবধি তাজা থাকবে। ডিম একটু ফেটে গেলে সেদ্ধ করার সময় পানিতে লবণ মিশিয়ে নিন। দেখবেন ডিম পানিতে বের হয়ে আসবে না।
  • মাংস টাটকা রাখার পদ্ধতিঃ যাদের ফ্রিজ নেই তাদের বাড়িতে যদি কোন দিন মাংস একটু বেশি আসে তবে নষ্ট হবার ভয়ে যে সবগুলো একবারে রান্না করে ফেলতে হবে এমন কোন কথা নেই। ইচ্ছে হলে পরের দিন বা তার পরের দিনের জন্য কিছু রেখেও দিতে পারেন। তেমন কিছু করতে হবে না। শুধু একটা অ্যালুমিনিয়ামের পাত্রে মাংস রেখে তার ওপর মাঠা তোলা দুধ এমনভাবে ঢেলে দেবেন যেন মাংস ওই দুধে ডুবে যায়। এভাবে ৪-৫ দিন অবধি মাংস বেশ টাটকা থাকবে এবং ব্যবহারও করতে পারবেন। তাছাড়া আর একটা পদ্ধতি রয়েছে যেটা রোদেশুকিয়ে করা হয়। পদ্ধতিটি শুকটি মাছ তৈরির পদ্ধতির মতো। এটাকে মাংসের এজিং প্রসেস বলা হয়। এভাবেও এটা অনেকদিন সংরক্ষণ করা যায় তবে এর স্বাদ কিছুটা ভিন্ন হবে।
  • মসলা বাটা বেশি হলেঃ মসলা বাটতে গিয়ে অনেক সময় এত বেশি পরিমাণ বাটা হয়ে যায়, পরে আর কাজে লাগে না। ব্যবহার করার পরও অতিরিক্ত কিছু মসলা থেকে যায়। সেটা ফেলে না দিয়ে কাজে লাগাবার একটা উপায় আছে। এর সাথে কিছু সরষের তেল এবং লবণ মিশিয়ে রাখুন। দেখবেন নষ্ট হবে না।
  • কাপড়ের লোহার দাগ পড়লেঃ রান্নাঘরে কাজ করতে গিয়ে অনেক সময় কাপড়ে কৌটা বা চাকুর মরচের দাগ পড়ে যায় যেটা সহজে ওঠা যায় না। লেবুর রস এবং লবণ একসাথে এই দাগের ওপর ঘষলে ফল পাওয়া যায়। এতে ধীরে ধীরে দাগ পুরোটা উঠে যাবে।
  • চায়ের দাগ লাগলেঃ কাপড়ে চায়ের দাগ লাগতেই পারে তবে সেটা দূর করার উপায় রয়েছে। একটু গ্লিসারিন ওই দাগের ওপর দিয়ে ভিজিয়ে দিন। পরের দিন ভাল করে কাপড়টি ধুয়ে দিন। দেখবেন দাগ উঠে ঝকঝক করছে।
  • মাংস যদি সহজে না গলেঃ যে প্রাণীরই মাংস হোক না কেন তা যদি বয়স্ক হয় কিংবা এক বেলার মাংস আরেক বেলায় কেনা হয় তাহলে মাংস শক্ত হয়ে যায়। সহজে সেদ্ধ হতে চায় না। তখন পাত্রে কাঁচা সুপারি ফেলে দেবেন। দেখবেন মাংস সহজেই সেদ্ধ হয়ে যাবে। কাঁচা পেঁপের বড় একটা টুকরাও দিতে পারেন, এতেও কাজ হবে।
  • হাতে হলুদের ছোপ পড়লেঃ রান্না করতে গিয়ে হাতে হলুদের ছাপ পড়া খুবই স্বাভাবিক। সাবান দিয়ে ধুলেও অনেক সময় সেই দাগ দূর করা যায় না। এই অবস্থায় কাপড় কাঁচা সোডা দিয়ে হাতটা ঘষে নিয়ে কিছু গ্লিসারিন মাখিয়ে দিলেই ছোপ উঠে যাবে।
  • আগুনে পুড়ে গেলেঃ রান্নাঘরে কাজ করতে গেলে অসাবধানবসত আগুনে হাত বা শরীরের অন্য কোন অংশ পুড়ে যেতে পারে। এটা খুবই সচেতন ঘটনা এবং এই বিষয়ে সবাইকে সচেতন থাকা উচিৎ। ইদানিং আগুনে পুড়ে যাওয়ার জন্য অনেক মলম জাতীয় ওষুধ বাজারে পাওয়া যায় কিন্তু অনেক সময় বাড়িতে ওষুধ না থাকতে পারে। সেক্ষেত্রে খাঁটি সর্ষের তেল পোড়া যায়গায় বেশি করে লাগিয়ে দিলে উপশম হবে। অথবা অল্প কাপড় কাচা সোডা পানির সঙ্গে মিশিয়ে ঘন করে লাগালেও কাজ হয়। আবার নারকেল তেল ও চুন মিশিয়ে দগ্ধ স্থানে লাগালেও বেশ উপকার পাওয়া যায়। এই কাজগুলো শুধুমাত্র সাময়িকভাবে প্রযোজ্য। যথাসময়ে ডাক্তার ডাকা উচিৎ।

 


Leave Comment

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

কপিরাইট ২০১৯© allbanglarecipes.com সর্বাধিকার সংরক্ষিত।